মোংলা বন্দরের উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগ, বাদ ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মোংলা বন্দরের উন্নয়নে চীনের বিনিয়োগ, বাদ ভারত

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার উন্নয়নে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে চীন। এর ফলে ভারত এই বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছিটকে পড়েছে। পূর্বে হাসিনা সরকারের আমলে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ইন্ডিয়ান পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডকে (আইপিজিএল) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারত এই প্রকল্প নিয়ে আর আগ্রহ দেখায়নি।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের আগে, গত ২৫ মার্চ চীনের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন করপোরেশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বন্দরের সুবিধা বাড়ানো ও আধুনিকীকরণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোংলা বন্দর একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও পরিবেশ-বান্ধব বন্দরে রূপান্তরিত হবে। ভবিষ্যতে এটিকে কোল্ড পোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

চীনা সহায়তায় এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করা, কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো, ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি কন্টেইনার জেটি নির্মাণ, এবং লোডেড ও আনলোডেড কন্টেইনারের জন্য ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও, জেটি ও কন্টেইনার মজুত এবং ইকুইপমেন্ট পরিচালনায় অটোমেশনসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

২০২৪ সালে ভারত মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছিল। ভারতের বন্দর, শিপিং ও নৌপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, তাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সাগরমালা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের একটি সহযোগী সংস্থা ইন্ডিয়ান পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) এই কাজটি করবে।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালে হাসিনা সরকার ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ নামে আরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ২০২২ সালে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু করে।

মোংলা বন্দর সম্প্রসারণে চীনের অংশগ্রহণের বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পূর্বের সরকার ভারত আগ্রহ দেখালেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই বন্দর ব্যবহার করে আম, কাঁঠালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক পণ্য চীনে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়াও সামগ্রিকভাবে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।