চব্বিশের বার্তা অনলাইন: অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে বিতর্কিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে সাড়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। সাজা ঘোষণার পাশাপাশি আদালত জি কে শামীমকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে। আদালত তার ‘অবৈধভাবে অর্জিত’ ২৯৭ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আরেক আসামি শামীমের মা আয়েশা আক্তারকে আদালত খালাস দিয়েছেন, কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগেও তাদের দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে, কারণ এই অভিযোগও প্রমাণ করা যায়নি। রায় ঘোষণার আগে জি কে শামীমকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় এবং রায় শেষে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে থাকা আয়েশা আক্তার এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দুদকের আইনজীবী মীর আহাম্মদ আলী সালাম জানান, তারা এই রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এবং পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, জি কে শামীমের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন জানান, তারা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি বলেন, মামলায় কিছু দুর্বলতা রয়েছে এবং তারা উচ্চ আদালতে এর সুবিধা পাবেন বলে আশা করছেন। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জি কে শামীম ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ থাকলেও বাকি টাকার বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার করা নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, সাত লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস দুদক খুঁজে পায়নি। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর দুদকে এই তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন পাওয়ার পর পরের বছরের ১৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তাকে ফের জেরা করা হয় এবং নতুন করে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জি কে শামীমের উত্থান হয়। তিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করলেও আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনটি তা অস্বীকার করে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিকেতনের বাসা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ভবন থেকে নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, এফডিআর, চেক বই, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় র্যাব জানায়, শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের হাতে সচিবালয় ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ ছিল, যেগুলোর ব্যয় বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। পরে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল হয় এবং তার ১৯৪টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। শামীমের বিরুদ্ধে মাদক, অর্থ পাচার ও অস্ত্র আইনেও মামলা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের মামলায় ২০২২ সালে শামীম এবং তার সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। পরের বছর অর্থপাচার মামলায় শামীমের ১০ বছর এবং তার সাত দেহরক্ষীর ৪ বছর করে কারাদণ্ড হয়।