ঈদ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ কমছে: দেশি ও বিকল্প পণ্যের জয়জয়কার

ঈদ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ কমছে: দেশি ও বিকল্প পণ্যের জয়জয়কার

Below is a refined and expanded version of the news article in Bangla, written in a polished, engaging, and professional tone suitable for a Bangladeshi audience. The content has been enhanced with additional context, details, and structure to make it a comprehensive and appealing article.


ঈদ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ কমছে: দেশি ও বিকল্প পণ্যের জয়জয়কার

গত দুই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণা জোরালোভাবে চলছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশে ভারত সমর্থিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। এই দুই ঘটনার সম্মিলিত প্রভাবে এবার ঈদের বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে ভারতীয় পোশাকের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শপিং মলে ভারতীয় পণ্যের বিক্রি কমেছে, আর দেশি সুতি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে থাইল্যান্ড, চীন, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে পণ্য আমদানির দিকে ঝুঁকছেন। গত শনিবার (১৫ মার্চ, ২০২৫) রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ঈদের বাজারে ক্রেতাদের ভিড়, পছন্দে দেশি সুতি

রাজধানীর পল্টন, নিউমার্কেট, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পোশাক কিনতে ব্যস্ত। পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি। এসব দোকানে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে দেশি সুতি পোশাক। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, এবার ঈদের সময় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। ফলে গরমে স্বস্তি দিতে সুতি কাপড়ের বিকল্প নেই।

পলওয়েল সুপার মার্কেট, যিনি দেশের বৃহত্তম বৈদেশিক পণ্যের মার্কেট হিসেবে পরিচিত, সেখানেও এবার ভারতীয় পণ্যের রমরমা অতীতের তুলনায় অনেক কম। আগে এই মার্কেটে ভারতের মুম্বাই ও কলকাতার থ্রি-পিস, শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাকের প্রাধান্য ছিল। কিন্তু এবার ক্রেতারা পাকিস্তানি ব্র্যান্ড যেমন গুলজি, মীর্জা, আগানূর, তায়াক্কাল, রাঙরাসিয়া, রুহাই সাকুন, মাহাজাল, বিনসাইদ, বিনহামিদ, মার্শাল ও আলিয়ার মতো থ্রি-পিসের প্রতি ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ দেশি ব্র্যান্ডের পোশাক বেছে নিচ্ছেন। তবে দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা

পল্টন এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইমুম শাহরিয়ার বলেন, ‘ইফতারের পর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঈদের শপিংয়ে এসেছি। এখানকার মার্কেটে সব দামের ও মানের পোশাক পাওয়া যায়। তবে এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। দেশি সুতি পোশাকের দিকে ঝুঁকেছি, কারণ গরমে এটা বেশি আরামদায়ক।’ তিনি আরও জানান, ভারতীয় পোশাক এবার তেমন চোখে পড়েনি, যা তাকে সন্তুষ্ট করেছে।

ঈদে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে নতুন জুতা ও ব্যাগ কেনেন। ফলে জুতা ও ব্যাগের দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পল্টন ও নিউমার্কেট এলাকার দোকানগুলোতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা পাওয়া যাচ্ছে। নকশা, রং ও মানে বৈচিত্র্য থাকলেও বেশিরভাগ জুতা এসেছে চীন থেকে। পাশ্চাত্য স্টাইলের কেডসের দাম ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে, আর চামড়ার জুতারও ভালো সংগ্রহ রয়েছে।

দেশি ব্র্যান্ডের উত্থান

যারা আগে বিদেশি পণ্যের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তারাও এবার দেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। বেইলি রোডে আড়ং, ফড়িং, জেন্টেল পার্ক, রঙ, অঞ্জন’স, প্রিন্স প্লাজা, কে-ক্রাফট, টুয়েলভ, ইনফিনিটি, সেইলর, আর্ট, ক্যাটসআই, দর্জিবাড়িসহ আরও বেশ কিছু দেশি ফ্যাশন হাউসে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এসব ব্র্যান্ড গুণগত মান বজায় রেখে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

ব্যবসায়ীদের মতামত

ঈদ বাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘এ বছর ভারতীয় পণ্য দেশে আনার কোনো সুযোগই নেই। আগে যে স্টক ছিল, সেগুলো টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি গার্মেন্টসগুলো এবার গুণগত মান ধরে রেখে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক।’

রাজধানী মার্কেটের হাসান ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘এবার ঈদের বাজারে ৬০ শতাংশ পণ্য দেশি। বাকি ৪০ শতাংশ এসেছে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে। ভারতীয় পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। বাজারে এই পরিবর্তন গত দুই বছরের প্রচারণা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফল।’

বাজারের নতুন দিক

ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণা ও আওয়ামী লীগের পতনের পর এই প্রথম ঈদ বাজারে এমন প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশি শিল্পের জন্য একটি সুযোগ। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ ও গুণগত মান বজায় রাখতে না পারলে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা এখন বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে বাজারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন।

এবারের ঈদ বাজারে দেশি পণ্যের প্রাধান্য ও ভারতীয় পণ্যের প্রতি অনীহা জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে।