বাংলাদেশ ফুটবল দলের এক যুগের অপেক্ষার অবসান: ইউসিবি’র সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি

বাংলাদেশ ফুটবল দলের এক যুগের অপেক্ষার অবসান: ইউসিবি’র সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি

প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের কোনো পৃষ্ঠপোষক ছিল না। তবে তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে নতুন কমিটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই এই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পেয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। আজ রোববার (১৬ মার্চ, ২০২৫) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইউসিবি এর আগেও বাংলাদেশের নারী ফুটবল এবং বাফুফে আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। এবার তারা জাতীয় পুরুষ দলের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

‘ইউসিবি আমাদের পার্টনার, শুধু স্পন্সর নয়’

চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ইউসিবিকে আমরা কেবল স্পন্সর হিসেবে দেখছি না, তারা আমাদের পার্টনার। আমরা একে অপরের সহযোগী। সামনের দিনগুলোতে আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে পথ চলব।’ তিনি এই অংশীদারিত্বকে ফুটবলের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তবে চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য চুক্তির মতো এই চুক্তির আর্থিক বিষয়টিও আমরা প্রকাশ করছি না। তবে ইউসিবি আমাদের ম্যাচ আয়োজন, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং অন্যান্য কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা দেবে। এছাড়াও তারা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ফুটবলের প্রচারে ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হবে।

ইউসিবি’র প্রতিশ্রুতি ও ফুটবলের গৌরব ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন

ইউসিবি’র চেয়ারম্যান শরীফ জহির চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ইউসিবি খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, এবং বাংলাদেশেও এটি জনপ্রিয় হওয়ার সব উপাদান রয়েছে। আমরা মনে করি, এখনই বাংলাদেশ ফুটবলের পাশে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। বাফুফে সভাপতির আহ্বান পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সাড়া দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য, ফুটবল তার হারানো গৌরব ফিরে পাক এবং ফিফা ও এএফসি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করুক।’

তিনি আরও জানান, ইউসিবি এর আগেও বাফুফের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছে। এবার পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারা ফুটবলের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে চায়।

তাবিথের নেতৃত্বে নতুন গতি

তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটি বাফুফের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে জাতীয় দলের জন্য কিট স্পন্সর নিশ্চিত করা হয়েছিল। এবার চার মাসের মধ্যে ইউসিবি’র মতো একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকতার চুক্তি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা জাগিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল স্পন্সরবিহীন থাকলেও নারী ফুটবল দলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঢাকা ব্যাংক কাজ করে আসছে। সাবিনা খাতুনদের স্পন্সর থাকলেও জামাল ভূঁইয়াদের মতো খেলোয়াড়দের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি। এবার ইউসিবি’র সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হলো।

ফুটবলের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা থাকলেও অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার অভাবে এটি পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন স্পন্সর না থাকায় জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ইউসিবি’র এই পৃষ্ঠপোষকতা ফুটবলের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, ম্যাচ আয়োজন এবং ডিজিটাল প্রচারণায় ইউসিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভক্তদের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ

ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, ইউসিবি’র মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সমর্থন জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। একজন ফুটবল ভক্ত বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমাদের দলের পাশে বড় একটি প্রতিষ্ঠান এসেছে। এখন দলের পারফরম্যান্সও উন্নতি করবে বলে আশা করি।’

বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে বাফুফে যে প্রচেষ্টা শুরু করেছে, ইউসিবি’র এই অংশীদারিত্ব তাতে নতুন গতি যোগ করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।