স্বাগতম মাহে রমজান

স্বাগতম মাহে রমজান

ড. মো. শহীদুল হক

আহলান সাহলান মাহে রমজান। স্বাগতম হে সম্মানিত অতিথি। পবিত্র রমজান অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপূর্ব সুযোগ থাকে। এ সুযোগ লুফে নিতে হলে প্রয়োজন রমজানকে যথাযথভাবে বরণ করে নেওয়া। নিচের কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা রমজানকে সুন্দরভাবে স্বাগত জানাতে এবং বরণ করে নিতে পারি :

১. অন্তরকে পবিত্র করা

রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। তাই প্রথমেই আমাদের হৃদয়কে পবিত্র করা দরকার। অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ ও অন্যের প্রতি বিদ্বেষ দূর করে আন্তরিকভাবে সবার প্রতি উদারতা দেখানো উচিত।

২. খালেস তওবা ও ইসতেগফার করা

রমজান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। তাই বেশি বেশি তওবা করা, ইসতেগফার করা এবং অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

৩. দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে আনা

রমজানে আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হতে হলে আমাদের দুনিয়াবি কাজ ও দায়িত্বগুলো এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। অফিস, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য ব্যস্ততা সামলে নেওয়ার জন্য রমজানের আগে থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত।

৪. মানসিক চাপ কমানো

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের মাস। তাই এ সময়ে মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। কাজে ভারসাম্য আনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ও ইবাদতের জন্য সময় বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. কোরআনের তেলাওয়াত ও অনুধাবন

রমজান মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই এ মাসে কোরআন পড়া ও বোঝার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রতিদিন কিছু সময় কোরআনের তেলাওয়াত করা এবং তার অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা রমজানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন।

৬. বেশি পরিমাণে জিকির করা

আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হওয়া রমজানের অন্যতম প্রধান আমল। তাই নিয়মিত দোয়া, জিকির, দরুদ শরিফ ও অন্যান্য ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন।

৭. দান-সদকা করা

রমজানে দান-সদকার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং সদকা ও জাকাতের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা উচিত।

৮. কিয়ামুল্লাইল ও তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হওয়া

রমজানের রাতে কিয়ামুল্লাইল তথা তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তাই আমরা যেন এ আমলে অভ্যস্ত হতে পারি, সে প্রস্তুতি নিতে হবে।

৯. যথাযথ মর্যাদায় সিয়াম পালন

সিয়াম শুধু উপোস থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার প্রশিক্ষণ। তাই আমাদের রোজার প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত, ধৈর্য ও সংযমের মাধ্যমে কাটানো উচিত।

রমজান আমাদের জন্য এক মহাসুযোগ, যাতে আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ, দোয়ার কবুলিয়াত ও জান্নাত লাভের দরজা উন্মুক্ত থাকে। এ মাসকে যথাযথভাবে স্বাগত জানিয়ে আমরা যদি আন্তরিকভাবে ইবাদতে মনোযোগী হই, তবে আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত আমাদের জীবনে নেমে আসবে। তাই আসুন, আমরা সবাই রমজানকে যথাযথ মর্যাদায় বরণ করে নিই এবং এ মাসকে আমাদের আত্মগঠনের মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাই।

সম্পাদনা : আহমদ মতিউর রহমান

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।