২৫ বিলিয়ন ডলার উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের উদ্যোগ

চব্বিশের বার্তা অনলাইন

২৫ বিলিয়ন ডলার উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের উদ্যোগ

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বিদেশে পাচার হওয়া এই সম্পদের অনুসন্ধানে তিনি কাজ শুরু করেছেন।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) আল জাজিরা 'বাংলাদেশ আপ এগেইনস্ট টাইম টু ফাইন্ড স্টোলেন বিলিয়নস: সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নর' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আহসান মনসুর, আইএমএফ-এর সাবেক অর্থনীতিবিদ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অধিকাংশ অর্থই বেহাত হয়ে যেতে পারে।

আল জাজিরা জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশের ১১টি প্রভাবশালী পরিবারকে চিহ্নিত করেছে, যাদের বিরুদ্ধে গত এক দশকে বৃটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কোটি কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের সন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ১১টি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। একটি পরিবারের বিরুদ্ধেই ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে, যা একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ আমানত তুলে নেওয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে এবং এর ফলে ব্যাংকটি প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর জানান, পাচারকৃত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কমনওয়েলথ দপ্তর এবং লন্ডনের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, ব্রিটেন চুরি হওয়া সম্পদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সম্পদ সেখানে পাচার হয়েছে।

আল জাজিরার পূর্বের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হাসিনার সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডন ও দুবাইতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সাইফুজ্জামানের ৪০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এবং তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বিদেশের সম্পত্তি জব্দ করার চেষ্টা করছে।

তবে সাইফুজ্জামান এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন এবং দাবি করেছেন তার সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত।

আহসান মনসুর চান, ব্রিটেন ও অন্যান্য স্থানে অর্থ পাচারে সহায়তাকারী আইনজীবী, ব্যাংকার ও এস্টেট এজেন্টদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, অপরাধীদের সহায়তাকারী এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গভর্নর জানান, অর্থ ফেরত পেতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং কার্যক্রমটি জটিল। তবে ব্রিটেন এক্ষেত্রে সহায়তা করছে। এছাড়া, অর্থ পাচারে সহায়তাকারীদের সঙ্গে দর কষাকষি এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর অর্থ উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে, কারণ ইউএসএআইডি তহবিল স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশে তদন্তকারী সংস্থা কাজ শুরু করতে পারেনি।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইউএসএআইডি'র মাধ্যমে যাদের অর্থায়ন করা হয়েছিল, তারা আর আসতে পারেনি, যা দুর্ভাগ্যজনক।