অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৭১ সালে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালেই দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। অধ্যাপক পরওয়ারের মতে, ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক ও ক্ষমতার স্বার্থে দিল্লির কাছে দেশকে বিক্রি করার একটি চুক্তি হয়েছিল, যার কারণে সেদিন বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। আজ বুধবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, 'যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। যারফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ বলেছে, এটাই আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা।’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম প্রমুখ। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা রুখতে একটি মহল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে জামায়াতের বিপক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ এ কাজে পারদর্শী। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে থাকা কিছু সংগ্রামী নেতার ভাষাও আওয়ামী লীগের ভাষার সঙ্গে মিলে যায়। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী যখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সঙ্গী থাকে, তখন তাদের ভালো বলা হয়, না থাকলে জঙ্গি বলা হয়। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী আদর্শের কারণেই দেশকে ভালোবাসে। একাত্তরের মীমাংসিত বিষয় সামনে এনে জামায়াতকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, ৫৪ বছর পর যারা একাত্তরকে ভুলে যেতে নিষেধ করেন, তারাই দেশ শাসনের সময় স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রী বানিয়েছেন। জামায়াতের কার্ড নিয়ে খেললে শেখ হাসিনার মতো বিদায় নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণহত্যায় জড়িতদের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরেই নির্বাচন দিতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় পূর্বের মতো বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।