ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৫: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা শুক্রবার রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যাতে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার অর্থ সারা দেশে ঘাপটি মেরে থাকা পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া।" তিনি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সংস্কার এবং নির্বাচনকে যেভাবে মুখোমুখি করে ফেলা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক।" বিএনপি মনে করে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কিতাবি সংস্কারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার এবং আচরণের ব্যবহারিক প্রয়োগ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সংস্কার প্রক্রিয়া টেকসই হতে পারে। তারেক রহমান বলেন, "গণইস্যুকে মুখ্য বানাতে গিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের সংশয় সৃষ্টি করা হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী না হলে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ এবং পেশাজীবীদেরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির স্বার্থেই পেশাজীবীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়া জরুরি। বিএনপি সংবিধানে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে, যাতে পেশাজীবীদের মেধা ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানো যায়। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাষ্ট্রে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীরা একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রে সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা দুর্বল থাকলে সুস্থ ও সবল রাজনীতি আশা করা যায় না। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই সিকদার, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ড. সুকোমল বড়ুয়া, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।