মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে হামলা

মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে হামলা লুটপাট ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে হামলা

মোহাম্মদ নয়ন তজুমদ্দিন, ভোলা
ভোলার চরফ্যাশনে ঈদগাহ মসজিদের জমি দাবী করে গভীর রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে পার্শবর্তী চরফ্যাশন উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নূরুল আমিনের ভোগদখলীয় বসতবাড়ি, মার্কেট ও সীমানা প্রাচীর ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১১মার্চ দুলারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী নুরুল আমিন। যার মামলা নং-০১/২০২৫।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দুলারহাট থানাধীন চর তোফাজ্জল, ৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত ডাঃ তোফাজ্জল হোসেন শাহ এর পূত্র নূরুল আমিন দুলারহাট বাজারের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্নে পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ২৮ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়ি ও মার্কেট নির্মান করে দির্ঘ বছর ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোঃ ফয়েজ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নূরুল আমিনের বসতভিটার মধ্যে মসজিদের জমি থাকার দাবীতে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
এ বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে কয়েক দফা শালিস মিমাংসার চেষ্টা করেও আওয়ামী প্রভাবশালীদের কারণে বিষয়টির কোনো শুরাহা হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে চরফ্যাশন বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিবাদী ফয়েজকে ৭ দিনের কারন দর্শানো নোটিশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই আওয়ামী নেতা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ফয়েজ গত ৭ মার্চ গভীর রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে চরফ্যাশন পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ রাশেদুল আলম নয়নের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ নেতা ফয়েজ, হাবিব সহ একদল দূর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভ্যাকু দিয়ে নূরুল আমিনের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় লুটপাট করে নিয়ে যায় ঘরে থাকা স্বর্নলংকার, আসবাবপত্র ও কয়েক কোটি টাকার মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের মালামাল। শুধু এখানেই শেষ নয়, মার্কেটসহ বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে উল্লাস করে ওই আওয়ামী দূর্বৃত্তরা। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
এ সন্ত্রাসী ঘটনায় নূরুল আমিন নিজে বাদি হয়ে ১১ মার্চ চরফ্যাশনের দুলারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ১১ মার্চ সাংবাদিকদের একটি টিম সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে ওই যুবদল নেতা তার কিছু সঙ্গীয় ক্যাডার নিয়ে ঘটনাটি তাদের পক্ষে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকদের গাড়ি গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ওই আওয়ামী নেতার বক্তব্য নিতে বাধ্য করে তারা।
ঘটনা স¤পর্কে ভূক্তভোগী নূরুল আমিন জানায়, এই স¤পত্তি তাদের পৈত্রিক। প্রায় ৭০ বছর ধরে তারা এখানে বসবাস করে আসছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে লুটতরাজ করে আমাকে জমি থেকে জোরপূর্বক উৎখাত করতে মসজিদের নামে জমি দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মসজিদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বর্তমান মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার মোঃ ফিরোজ বলেন, জমি দখলের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। আমি সেক্রেটারিকে বলেছিলাম, যেহেতু আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা হোক। এই ভাবে ভ্যাকু দিয়ে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়ার পক্ষে আমরা ছিলাম না। কিন্তু সেক্রেটারি ফয়েজ আমাদের কথা শুনেনি।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সহ-সেক্রেটারি মোঃ হাবিব জানান, এ ঘটনার সাথে আমার কোনো স¤পৃক্ততা নেই। জমি উদ্ধারের জন্য রাতে সেক্রেটারি ফয়েজের মাইকিং শুনে এখানে এসে দেখি কয়েকশত লোক। নিষেধাজ্ঞা সত্যেও বাড়িঘর ভাঙ্গা এটা আইন সম্মত না। এটা খুব খারাপ হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত চরফ্যাশন পৌর যুবদল নেতা রাশিদুল আলম নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, আমার জন্ম এখানে। দির্ঘ ৪০ বছর এ জমির নি®পত্তি হয়নি। দলের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু কেউ মিমাংসা করে দেয়নি। ৫ আগস্টের পর সবাই যার যার অধিকার ফিরে পেতে চায়। এই জমিটা দুই পক্ষই চায়। আদালতের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। আদালতে নূরুল আমিনের মামলা খারিজ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকজনরাই মসজিদের জমি দখল করেছে।
মামলার প্রধান আসামি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: ফয়েজ বলেন, বিল্ডিং অবৈধভাবে মসজিদের জায়গা নির্মিত হয়েছে, যার কারণে মুসল্লীগণ সেটি ভেঙে দিয়েছে।
এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ ইফতেখার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইনানুগ ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।