ঈদযাত্রার শেষ দিনেও স্বস্তি, কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া নিয়ে অভিযোগ

চব্বিশের বার্তা অনলাইন:

ঈদযাত্রার শেষ দিনেও স্বস্তি, কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া নিয়ে অভিযোগ

ঈদযাত্রার শেষ দিনেও ভোগান্তিহীন

যাত্রীরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে সড়ক, রেল ও নৌপথে তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। গতকাল শনিবার পর্যন্ত বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলো সময়মতো ছেড়ে গেছে এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের চিত্রও চোখে পড়েনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা ও জরিমানা আদায় করেছে। মহাসড়কগুলোতে চিরচেনা যানজটের দৃশ্য দেখা যায়নি, তবে দুর্ঘটনার কারণে কিছু স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের ভাড়া তুলনামূলক বেশি নেওয়া হচ্ছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। যারা আগে থেকে টিকিট কাটেননি, তারা বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সায়েদাবাদ থেকে নন-এসি বাসের টিকিট সংগ্রহ করা আশিক হোসেন জানান, তাকে সাধারণ সময়ের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে ৮০০ টাকায় টিকিট কিনতে হয়েছে। মোসাদ্দেক বিল্লাহ জানান, কাউন্টার থেকে ১০০০ টাকা চাওয়া হলেও দর কষাকষির পর ৯০০ টাকায় টিকিট পেয়েছেন। গাবতলী থেকে এসি বাসের টিকিট নেওয়া হোসাইন আহমদ জানান, কাউন্টারে ১৪০০ টাকা চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১০০০ টাকায় টিকিট পেয়েছেন, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০০ টাকা বেশি।

তবে বাস কাউন্টারের মালিক ও কর্মীরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পূর্বাশা কাউন্টারের ফারুখ হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সাকুরা পরিবহনের আল-আমিন জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না এবং টিকিটের সংকটও নেই। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারকর্মী সোহেল জানান, নন-এসি বাসের ভাড়া ১৩০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ১৪০০-১৮০০ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে, যা অনলাইনে আগে বিক্রি হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ কম।

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে বিআরটিএ। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে লাল-সবুজ, গোল্ডেন লাইন, সাকুরা ও হিমাচল পরিবহনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক জানান, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মলম পার্টির উপদ্রব থাকবে না।

বিআরটিএ-এর কন্ট্রোল রুম ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। যাত্রী সাধারণকে যানজট, বাড়তি ভাড়া আদায় বা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে ১৬১০৭ অথবা ০১৫৫০-০৫১৬০৬, ০১৫৫০-০৫৬৫৭৭ ও ০১৫৫২-১৪৬২২২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের কঠোর অবস্থানের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট ছিল না। মহাসড়কের বেহাল অংশ দ্রুত মেরামত করায় ভোগান্তি কমেছে।

যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে ৪৮ হাজার ৩৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। পদ্মা সেতু দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৬৩৭টি যান পার হয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন জানান, কোনো ট্রেন স্টেশন ছাড়তে বিলম্ব করেনি।

নৌপথে কিছু লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা পর ছেড়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।