চব্বিশের র্বাতা অনলাইন: নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, জনগণের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বৃহস্পতিবার চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, মানব সভ্যতা বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাসী দেখছে যে বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নিন্দা সত্ত্বেও সেখানে গণহত্যা চলছে। ফিলিস্তিনের সংকট শুধুমাত্র আরব বা মুসলিমদের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সংকট। পাশাপাশি, ইউক্রেনের চলমান অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে। আর্থিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, এশিয়ার দেশগুলোকে একটি টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। খাদ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর উচিত সম্পদ-সাশ্রয়ী কৃষিকাজকে উৎসাহিত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুক্রবার বেইজিংয়ে ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর ২৯ মার্চ তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিকেইউ) বক্তৃতা দেবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। প্রধান উপদেষ্টার ২৯ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে।