পৃথিবী সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হতে যাচ্ছে। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী আবারও একই সরলরেখায় অবস্থান করায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সম্পূর্ণ সূর্য। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দিনের বেলায় নেমে আসবে রাতের মতো ঘন অন্ধকার।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সূর্যের আলো সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

৮,৩০০ কিলোমিটারের ছায়াপথ:

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল ছায়াপথটি প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি আর্কটিক উপকূল থেকে শুরু হয়ে উত্তর মেরুর কাছাকাছি দিয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বিস্তৃত হবে। স্থানভেদে সূর্য ঢেকে থাকার সময় ২০ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ আড়াই মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অঞ্চলে সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে গ্রহণটি ঘটবে, যা একই সাথে পূর্ণগ্রাস ও সূর্যাস্তের এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করবে। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ২০০৬ সালের পর এবং স্পেনে ১৯০৫ সালের পর (১২০ বছরেরও বেশি সময় পর) এমন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।

আংশিক গ্রহণ ও আবহাওয়া:

মূল ছায়াপথের বাইরে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হবে। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে আকাশ পরিষ্কার থাকার ওপর; মেঘ বা বৃষ্টি থাকলে মহাজাগতিক এই দৃশ্য দেখার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?

না, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এবারের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এই গ্রহণ শুরু হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলের আকাশে তা দৃশ্যমান হবে না।

সুরক্ষা সতর্কতা:

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খালি চোখে কখনোই সূর্যগ্রহণের দিকে তাকানো উচিত নয়। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য অনুমোদিত সোলার ফিল্টার বা সৌরদর্শন চশমা ব্যবহার করা আবশ্যক।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
প্রকাশক : ফোরকান পাহলান
সম্পাদক : ইমরান হোসেন
স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক 24barta.com
Exit mobile version