স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের পরই বিএনপির আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন, ফাঁকা হওয়া স্থায়ী কমিটির পদে কারা আসছেন এবং তার মন্ত্রীত্ব ও সংসদীয় আসনে কী পরিবর্তন ঘটবে—তা নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে জোর আলোচনা চলছে।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ
দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকেই পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব না বানিয়ে আপাতত ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সাথে স্থায়ী কমিটিতে তার পদটি শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার পর থেকেও স্থায়ী কমিটির একটি পদ খালি রয়েছে। তবে আগামী শীত মৌসুমে (নভেম্বর বা ডিসেম্বরে) বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় স্থায়ী কমিটির স্থায়ী পদগুলো এখনই পূরণ না-ও হতে পারে।
দলের একটি বড় অংশের মতে, বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলটির মূল নেতৃত্ব ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর।
এই বিষয়ে রিজভী আহমেদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে কাজ করছেন এবং দল তাকে যে দায়িত্ব দেবে তা তিনি পালন করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির শূন্য পদের প্রার্থী হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুকের নাম উঠে আসছে।
মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য রদবদল
ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে তার বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি হবে। সেক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
পাশাপাশি, মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হলে সেখানে উপ-নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কে হবেন—ফখরুলের পরিবারের কেউ নাকি দলের স্থানীয় অন্য কোনো নেতা—তা নিয়েও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের নেতাকর্মীদের মাঝে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
