নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষনার তারিখ চুড়ান্ত করলেন সারজিস আলম

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির দল ঘোষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সারজিস আলম।

নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষনার তারিখ চুড়ান্ত করলেন সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। দলটির আত্মপ্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও, তা পুনরায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে নতুন এ রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হবে।

সারজিস আলম বলেন, নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চাহিদা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। ৫ আগস্টের আন্দোলনের স্বপ্ন ও ‘জুলাই স্পিরিট’ ধারণ করেই এই দল আত্মপ্রকাশ করছে। দেশকে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারায় এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের ভিত্তিতে গঠিত এই দল আগামী প্রজন্মকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শহীদ পরিবারের সদস্য, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে জনমত জরিপ পরিচালনা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার আওতায় অনলাইনে এবং বিভিন্ন জেলায় মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ জরিপে মতামত দিয়েছেন।

এদিকে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ছয়টি পদ অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে নতুন দুটি পদ সংযোজন করা হয়েছে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখপাত্র এবং মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নামে দুটি নতুন পদ রাখা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সামনের সারিতে থাকা ছাত্রনেতারাই নতুন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদগুলোতে আসছেন। দলের আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম মনোনীত হয়েছেন। সদস্যসচিব পদে কিছু মতবিরোধ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আখতার হোসেনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব।

নতুন দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে যেকোনো সময় অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করতে পারেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। দলের মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র হিসেবে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক কমিটিতে থাকা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আলী আহসান জোনায়েদের (শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি) নাম বিবেচনায় রয়েছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসতে পারেন।

শীর্ষ ছয়টি পদের বাইরে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্যসচিব অনিক রায়, মাহবুব আলম ও অলিক মৃ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন।