গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ৪ প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি কিনছে সরকার

দেশের জ্বালানি সংকট নিরসন ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে চারটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) মার্কিন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ১২ বছর মেয়াদী চুক্তিতে ১১৭ কার্গো এবং বাকি তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন পায়।

দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সাথে): আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ‘গানভর ইউএসএ এলএলসি’-এর সাথে জি-টু-জি ভিত্তিতে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • ২০২৬-২০২৮ পর্ব: ২০২৬ সালে ৫ কার্গো, ২০২৭ সালে ৬ কার্গো এবং ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি কেনা হবে ‘জেকেইএম’ সূচকের সাথে প্রতি এমএমবিটিইউ-তে ০.০৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে।

  • ২০২৮-২০৩৮ পর্ব: ২০২৮ সালে অতিরিক্ত ৩ কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে দাম নির্ধারিত হবে ১২১% ‘এইচএইচ’ সূচকের সাথে প্রতি এমএমবিটিইউ ৫.২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

স্বল্পমেয়াদী ও সরাসরি ক্রয় (অন্যান্য ৩ প্রতিষ্ঠান):

  • ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (যুক্তরাজ্য): প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৫০ মার্কিন ডলার দরে ২ কার্গো এলএনজি।

  • ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি (ওমান): ‘জেকেইএম’ সূচকের সাথে প্রতি এমএমবিটিইউ-তে ০.৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে ২ কার্গো এলএনজি।

  • ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (হংকং): ২০২৬ সালের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪.৯৫ মার্কিন ডলার দরে সরাসরি ২ কার্গো এলএনজি।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এই এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
প্রকাশক : ফোরকান পাহলান
সম্পাদক : ইমরান হোসেন
স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক 24barta.com
Exit mobile version