ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ (এসএনএসসি)-এর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজাই।
হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে চলমান তীব্র উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনিশ্চিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে রেজাইকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে।
মোহসেন রেজাইয়ের পরিচিতি
৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই ১৯৮০-এর দশকের ঐতিহাসিক ইরান-ইরাক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইরানে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ বা ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স’ নামে পরিচিত। সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোতেও তার বড় প্রভাব রয়েছে। তিনি এর আগে দেশের আইন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী সংস্থা ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’-এর সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি ও কঠোর নীতি
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে রেজাই বরাবরই শক্ত অবস্থানের পক্ষপাতি। বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় ইরানের ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। রেজাই সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে, কৌশলগত বিচারে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ একাধিক পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী। এছাড়া মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনকে চরম মাশুল গুনতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয় থেকে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। একই সাথে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি রেজাইকে কাউন্সিলে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সরকার, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যেই রেজাইয়ের সামরিক অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তাকে এই পদে বসানোর দুটি প্রধান দিক থাকতে পারে— ১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি চাপের জবাবে তেহরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতি আরও কঠোর করার বার্তা দেওয়া। ২. ভবিষ্যতে পশ্চিমা শক্তির সাথে কঠোর বা জটিল কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছালে তা দেশের অভ্যন্তরীন কট্টরপন্থী ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
