আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ইউরোপীয় ঘাঁটি ও সাব-সি ক্যাবল ঝুঁকির মুখে
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা অব্যাহত রাখে বা নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপকে লক্ষ্যবস্তু করার চিন্তাভাবনা করছেন ইরানি নীতি নির্ধারকেরা।
-
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু: দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ার মার্কিন অবস্থানগুলো তেহরানের নজরদারিতে রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির বাজমার বিমানঘাঁটি মার্কিন সামরিক বিমানকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এছাড়া সাইপ্রাসে অবস্থিত ঘাঁটিও হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
-
যোগাযোগ ব্যবস্থা: নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর করে দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে তেহরানের কৌশলগত শাখা।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ, বাড়ে নি আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইতিপূর্বে দ্বিপক্ষীয় ৬০ দিনের ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত কূটনৈতিক সমাধান বা ফলপ্রসূ আলোচনা না হওয়ার মধ্য দিয়েই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সামরিক সংস্কারের আওতায় শীর্ষপদগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে জবাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না— বিশ্বজুড়ে থাকা তাদের দূরবর্তী অবকাঠামোতেও তা বিস্তৃত হবে।
অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাল রাশিয়া
উত্তেজনাকর এই বৈশ্বিক আবহের মধ্যে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগর পথ ব্যবহার করে প্রহারযোগ্য বিস্ফোরক, ড্রোন উপাদান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ রুশ সামরিক চালান ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করে আসছে মস্কো ও তেহরান।

