অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হালনাগাদ করা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বর্ধিত তালিকা ও নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করেছে বর্তমান সরকার। ফলে ১৯৯৪ সালের পুরোনো প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১১৭টি ওষুধের তালিকা এবং আগের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই আপাতত বহাল থাকছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের মতামত ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার ওই তালিকা প্রণয়ন করায় পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। একই সাথে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির বিপরীত’ এবং ‘ঠুনকো অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পদ্ধতিগত কোনো ত্রুটি থাকলে তা বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে পরিমার্জন করা যেত। পুরো তালিকা বাতিল করে তিন দশক আগের নীতিমালায় ফিরে যাওয়ার ফলে সাধারণ জনগণের চেয়ে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালের তালিকায় ১১৭টি ওষুধ থাকলেও বর্তমানে বাজারে তার মধ্যে মাত্র ৩০টির মতো ওষুধ উৎপাদিত হয়। গত ৩০ বছরে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরোনো তালিকায় ফিরে যাওয়া সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, পূর্ববর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট খাতের কারও মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে ওই তালিকা নির্ধারণ করেছিল।
ইতোমধ্যে নতুন করে তালিকা হালনাগাদ ও দাম নির্ধারণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ওষুধের দাম রাখা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

