বুধবার, সেপ্টেম্বর ২
হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংকটের কারণে কাতার এনার্জি এলএনজি সরবরাহে ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র (ফোর্স মেজার) মেয়াদ বৃদ্ধি করায় বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হয়েছে।
সংকটের মূল চিত্র ও বাংলাদেশের প্রভাব:
  • সরবরাহ বিঘ্ন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন প্রায় বন্ধ। কাতার এনার্জি ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের সরবরাহ বাতিল নোটিশ বাড়িয়েছে, যা নভেম্বরের প্রথম ভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
  • বাংলাদেশের ঝুঁকি: কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে নিয়মিত সরবরাহ পৌঁছাচ্ছ না। ফলে দেশে মারাত্মক গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ অ্যান-সোফি করবোর মতে, আমদানির বৃহৎ অংশ কাতার-আমিরাত নির্ভর হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারের চিত্র ও বিকল্প ব্যবস্থা:
  • উৎপাদন ও আয় ধস: কাতার যুদ্ধের প্রথম ৬ মাসে মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পেরেছে (আগের বছর যা ছিল ৫০ ৯টি)। এতে কাতারের আয় আনুমানিক ২৪ বিলিয়ন ডলার কমেছে।
  • অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়া উৎপাদন কিছুটা বাড়ালেও কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি মেটানো যাচ্ছে না। ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দাম না দিয়ে নিজেদের মজুতকৃত গ্যাস ব্যবহার করছে। অনেক দেশ অন্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
  • এডিসনের উদ্যোগ: ইতালির ‘এডিসন’ প্রতিষ্ঠানের ২৯টি নির্ধারিত চালানের মধ্যে ২১টির বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে গ্রাহকদের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও টেকসই সমাধানের সময়সীমা:
  • উৎপাদন ফিরতে সময়: হরমুজ প্রণালি চালু হলেও কাতারের ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি উৎপাদন ইউনিট চালু হতে অন্তত দুই মাস লাগবে। আর রাস লাফান এলাকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২টি ইউনিট মেরামতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
  • বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা: বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য আগের মতো স্বাভাবিক হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
Share.
Leave A Reply Cancel Reply
প্রকাশক : ফোরকান পাহলান
সম্পাদক : ইমরান হোসেন
স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক 24barta.com
Exit mobile version