বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার মার্কিন নীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত। ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই রায় দিয়ে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমাকে অতিক্রম করেছে।
রায়ে বিচারক স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিসা স্থগিতের এমন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভিসানীতি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত এক্তিয়ারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ঘটনাটির মূল পটভূমি ও ধারাবাহিকতা:
-
স্থগিতাদেশ জারি: ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া ও সিরিয়াসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয়, যা ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
-
প্রশাসনের যুক্তি: মার্কিন সরকারের দাবি ছিল, এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বেশি, যার কারণে সাধারণ মার্কিন করদাতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
-
আদালতে চ্যালেঞ্জ: ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে বেআইনি দাবি করে ম্যানহাটান আদালতে মামলা দায়ের করে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংস্থা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ এবং ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’।
-
পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত: এর আগে গত ৩ আগস্ট কলাম্বিয়া জেলা জজ আদালতের বিচারক অমিত মেহতাও এই ৭৫ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড স্থগিতাঙ্ককে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
ম্যানহাটান আদালতের এই সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের আইনি জটিলতার অবসান ঘটল।

