পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও রসালো বিরিয়ানি কিংবা লোভনীয় কোনো আইসক্রিম দেখলে তা খাওয়ার লোভ সামলানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, পছন্দের খাবারের ছবি দেখলেও জিভে পানি চলে আসে। এর পেছনে কেবল ক্ষুধার্ত থাকা নয়, বরং কাজ করে মানব মস্তিষ্কের জটিল স্নায়বিক প্রক্রিয়া ও হজমতন্ত্রের পূর্বপ্রস্তুতি।
জিভে পানি আসার বৈজ্ঞানিক কারণ:
গবেষকদের মতে, খাবার মুখের ভেতরে নেওয়ার বহু আগেই শরীরের পরিপাকতন্ত্র কাজ শুরু করে দেয়। যখন কেউ কোনো আকর্ষণীয় খাবার দেখে, তার সুবাস পায় কিংবা কেবল খাবারটির কথা মনে করে, তখন সেই বার্তা দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
মস্তিষ্ক তখন ধরে নেয় যে শরীর শীঘ্রই কিছু গ্রহণ করতে চলেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বার্তা লালাগ্রন্থিতে পৌঁছে যায়, যার ফলে লালা নিঃসরণ শুরু হয় এবং জিভে পানি চলে আসে। একই সঙ্গে পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রও খাবার হজম করার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
পেট ভরা থাকলেও কেন খাওয়ার ইচ্ছা জাগে?
প্রিয় খাবারের সুবাস বা দৃশ্য কেবল লালাগ্রন্থিকেই সক্রিয় করে তোলে না, এটি শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে। এই হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে পেট সম্পূর্ণ ভরা থাকলেও নতুন করে ক্ষুধা পাওয়ার অনুভূতি জাগতে পারে এবং খাবার খাওয়ার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের যে অংশটি গন্ধের মাধ্যমে উদ্দীপিত হয়, সেটি সরাসরি ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে সুবাস পেলেই খাওয়ার বাসনা প্রবল হয়ে ওঠে।
মনের ওপর খাবারের প্রভাব:
নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সুবাস মস্তিষ্কে এমন কিছু হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা মানুষের মনে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। এ কারণেই শুধু ক্ষুধা নিবারণ নয়, বরং প্রিয় খাবার সামনে দেখলে মনও প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।
দুর্গন্ধ বা খারাপ অভিজ্ঞতার বিপরীত প্রতিক্রিয়া:
পছন্দের খাবারের বেলায় মস্তিষ্ক যেমন ইতিবাচক সংকেত দেয়, তেমনি পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ ধরনের উৎকট গন্ধে শরীর থেকে বমি ভাব বা অরুচির বার্তা আসে। এছাড়া অতীতে নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকলে, পরবর্তীতে সেই খাবারের গন্ধ পেলেই মস্তিষ্ক সতর্ক হয়ে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বমি ভাব বা বিতৃষ্ণা তৈরি হয়।

