
ক্যানবেরায় সিদ্ধান্তহীনতা ও পলিন হ্যানসনের উত্থান: সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি
ক্যানবেরার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের দেশের অভিবাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা ঘোষণার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পুনর্মূল্যায়ন করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ মতভেদে স্পষ্ট যে, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ডান ও বাম—উভয় রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচনার মুখে জনগণের কাছে এই নতুন কড়াকড়ির যৌক্তিকতা তুলে ধরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
এই রাজনৈতিক দ্বিধার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন কট্টর ডানপন্থী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর প্রধান পলিন হ্যানসন। ৩০ বছর আগে সংসদে এশীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা হ্যানসনের রাজনৈতিক প্রভাব সম্প্রতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনমত জরিপ ও অভিবাসন বিতর্ক
-
জনসমর্থন বৃদ্ধি: গত নির্বাচনে সাড়ে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া ওয়ান নেশন দলের সমর্থন সাম্প্রতিক কিছু জনমত জরিপে ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা প্রধান বিরোধী জোট কোয়ালিশনকে পেছনে ফেলেছে।
-
রাজনৈতিক অবস্থান: জরিপের গড় অনুযায়ী, লেবার পার্টির প্রাথমিক সমর্থন সাড়ে ৩৪ শতাংশ থেকে প্রায় ৭ শতাংশ এবং কোয়ালিশনের সমর্থন ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
-
আবাসন ও অর্থনৈতিক চাপ: মহামারির পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট অভিবাসন ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, চড়া বাড়িভাড়া এবং আবাসনসংকটের জন্য সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ অতিরিক্ত অভিবাসনকে দায়ী করছেন।
প্রস্তাবিত নীতি ও ফি বৃদ্ধি
অভিবাসন সংখ্যা বার্ষিক ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা এবং স্থায়ী অভিবাসনের কোটা ১ লাখ ৮৫ হাজারে সীমিত করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপের খসড়া তৈরি হচ্ছে।
-
ভিসা আবেদন ফি: ১ জুলাই থেকে ভিসা আবেদন ফি প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
-
অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার: ২৪ জুলাই জারীকৃত এক নির্দেশনা অনুযায়ী, দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে দেশের ভেতরের আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং বিদেশ থেকে করা আবেদনসমূহ পিছিয়ে পড়বে।
-
পারিবারিক ভিসা কড়াকড়ি: পর্যটক ভিসায় এসে দেশের ভেতর থেকে জীবনসঙ্গী (পার্টনার) বা পারিবারিক ভিসার আবেদন বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব
বর্তমানে জীবনসঙ্গী ভিসার আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার অভিযোগ উঠছে।
দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়মের কারণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাজীবীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে সিডনির ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাবে সামাজিক পরিমণ্ডলে ও বর্ণবাদী আচরণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন প্রবাসী দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়।
