সম্প্রতি নিজেদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। অতীতের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে তারা এখন আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এই নতুন কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন সামরিক কৌশল ও পুরস্কারের ঘোষণা:
-
পুরস্কারের পরিকল্পনা: ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দী করার জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
-
আর্থিক অনুদান: সাধারণ নাগরিক বা সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য মার্কিন সেনা আটক বা হত্যা করতে পারলে ৫ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ২৬ হাজার ডলার) দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ সম্পন্ন করলে তিনি দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫৩ হাজার ডলার) পাবেন।
-
অস্ত্র বিক্রির সুযোগ: হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরকার দ্বিগুণ দামে কিনে নেবে এবং সেটি কোনো সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করে ব্যবহারকারীকে নতুন একটি বিকল্প অস্ত্র প্রদান করা হবে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে উল্লেখ করে ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে, যা ওই অঞ্চলে আমেরিকার রাজনৈতিক পতনের স্পষ্ট নির্দেশক।

