দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহ করতে হবে। এ সময় সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বরসংবলিত ব্যালট সংগ্রহ করতে হবে। ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে সেটি কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
এরপর ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে ভোটারের পূর্ণ নাম লিখে ভোট প্রদান করতে হবে। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালটটি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ভোটগ্রহণ চলাকালে সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো সমস্যা হলে চিফ হুইপ কিংবা বিরোধীদলের চিফ হুইপের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ব্যালট পেপারে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের পরিবর্তে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লেখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমে মোট ভোটারদের মধ্যে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—এসব হিসাব করা হবে। পরে বৈধ ভোটের ভিত্তিতে প্রার্থীদের ভোট গণনা করা হবে।
সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। এরপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোটকে ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
