রবিবার, আগস্ট ১৬

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয়। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় ওষুধ, সিরামিক, ইস্পাত ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ ছোট-বড় শত শত কারখানার উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, সাভার ও চট্টগ্রামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।

গত এক মাস ধরে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ অপর্যাপ্ত থাকলেও সম্প্রতি এ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কারখানা তৈরি করত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। এছাড়া চালু থাকা আরও দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

উৎপাদন সচল রাখতে ইস্পাত, হিমাগার ও ওষুধ খাতের কিছু কারখানা বাধ্য হয়ে ডিজেল ব্যবহার করে বিকল্প উপায়ে জেনারেটর ও বয়লার চালাচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে লাফিয়ে বাড়ছে পণ্য তৈরির ব্যয়, যা সামগ্রিক ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান তৈরি করছে।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের চিনি, ভোজ্যতেল, গম ও ডাল পরিশোধনের বড় বড় কারখানাগুলোতেও উৎপাদন থমকে গেছে। শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কারখানা বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় রয়েছে।

শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের চরম লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক জেনারেটরগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে বাজার ও অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পমালিকরা।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
প্রকাশক : ফোরকান পাহলান
সম্পাদক : ইমরান হোসেন
স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক 24barta.com
Exit mobile version