বুধবার, আগস্ট ১৯

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই সর্বোচ্চ প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরনে (সেরোটাইপ) বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

ডেঙ্গুর নতুন রূপ ও সেরোটাইপ পরিবর্তন

বিগত কয়েক বছর দেশে ডেঙ্গুর প্রধান ধরন হিসেবে ডেন-২ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে ডেন-৩ সেরোটাইপের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

  • ঢাকার চিত্র: ঢাকায় সংগৃহীত নমুনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৯১.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেন-৩ এবং ৮.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেন-২ উপস্থিত।

  • ঐতিহাসিক পরিবর্তন: ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশে ডেন-২-এর প্রকোপ বেশি ছিল (প্রায় ৭০%)। ২০২৫ সালে তা কমে ৪৮%-এ নেমে আসে এবং ২০২৬ সালে তা পুরোপুরি ডেন-৩-এ রূপান্তরিত হয়েছে।

মৃত্যু ও জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণগত পরিবর্তনের কারণে এবার রোগীদের ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি হতে পারে।

  • অ্যান্টিবডির অকার্যকারিতা: দীর্ঘ দিন ডেন-২ সক্রিয় থাকায় অনেকের শরীরে ওই ধরনের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন ডেন-৩ রূপের বিরুদ্ধে পূর্বের অ্যান্টিবডি সুরক্ষা দিতে পারে না।

  • দ্বিতীয়বার সংক্রমণ: অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা নতুন সেরোটাইপে পুনরায় সংক্রমিত হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোম’-এর আশঙ্কা বেড়ে যায়।

  • প্রাদুর্ভাবের সময়সীমা: বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ডেঙ্গুর এই প্রকোপ চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

দেশজুড়ে সংক্রমণের চিত্র

ডেঙ্গুর বিস্তার দেশের ৬৪টি জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে।

  • আঞ্চলিক অবস্থা: জেলা পর্যায়ে পিরোজপুরে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থানে (যেমন সুপারি গাছের গোড়ায় জমানো পানি) এডিস মশার লার্ভা বংশবৃদ্ধি করছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

  • বিভাগীয় পরিসংখ্যান: ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (১০ হাজার ছাড়িয়েছে)। ঢাকার বাইরে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী ভর্তির হার তুলনামূলক বেশি।

প্রতিরোধ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্যবিদদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল চিকিৎসায় জোর না দিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।

  • বাসা-বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

  • বৃষ্টির পানির জমা বন্ধ করে মশার লার্ভা বিনাশে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

  • জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

Share.
Leave A Reply Cancel Reply
প্রকাশক : ফোরকান পাহলান
সম্পাদক : ইমরান হোসেন
স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক 24barta.com
Exit mobile version