যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে এক বিতর্কিত ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধে ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অতিগুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের নাসাও কাউন্টি পুলিশ একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা:
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে চরমভাবে পরাস্ত করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে মার্কিন বাহিনী যে কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে, তা শিথিল করা হবে না বরং ইস্পাতের প্রাচীরের মতো শক্ত অবস্থান বজায় রাখা হবে।
সংঘাতের ব্যাকগ্রাউন্ড ও উত্তেজনা:
-
যুদ্ধের সূচনা: চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
-
হরমুজে পাল্টা পদক্ষেপ: যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি ও অবরোধ আরোপ করে। জবাবে এপ্রিল মাসে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে পাল্টা সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।
-
শান্তি চুক্তি ভাঙন: দীর্ঘ সংঘাতের পর গত ১৭ জুন উভয় দেশ ‘ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষর করলেও, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ১৩ জুলাই ইরান সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে আসে এবং পুনরায় অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রও সাথে সাথে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ পাল্টাজনিত অবরোধ পুনর্বহাল করে।
টোল আদায় ও সার্বভৌমত্বের দাবি:
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না এবং অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তেহরানকে নিয়মিত টোল দিতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে এবং চলাচলকারী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ টোল আদায় করবে, যদিও পরবর্তীতে তিনি সেই বক্তব্য থেকে পিছু হটেছিলেন। তবে এবার সরাসরি এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড করার হুমকি দিলেন তিনি।
তেহরানের তীব্র প্রতিবাদ:
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মার্কিন কোনো হুমকিতে ইরান পিছু হটবে না। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ ছিল এবং থাকবে। তেহরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই প্রণালির চলাচল নির্ধারিত হবে। মার্কিন প্রশাসন তাদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করা পর্যন্ত এই জলপথে ইরানের সামুদ্রিক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
